পানির নিচে চিত্রগ্রহণে ব্যস্ত সালমান সাঈদ
কৈশোরেই ক্যামেরাটাকে ভালোবেসে গলায় ঝুলিয়েছেন সালমান সাঈদ। ক্যামেরাটা অবশ্য বেঈমানি করেনি। যৌবনে এসে ঠিকই প্রতিদান দিয়েছে। সালমানের ক্যামেরায় তোলা ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বর্ষপঞ্জিতে স্থান পেয়েছে, বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রে প্রকাশিত হয়েছে; প্রকাশিত হয়েছে দেশি-বিদেশি দৈনিক পত্রিকার পাতাতেও। এই ক্যামেরার কল্যাণেই ২০০৯ সাল থেকে তিনি পালন করছেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের যোগাযোগ সহকারীর দায়িত্ব। সালমানের এতসব অর্জনের মিছিলে সাম্প্রতিক সংযোজন ডিসকভারি চ্যানেলের প্রযোজনায় নির্মিত ৪৫ মিনিটের এক প্রামাণ্যচিত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি আলোকচিত্রী। গুণী এই তরুণ আলোকচিত্রীর জন্ম ঢাকার টিকাটুলীতে। দেড় বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে এখন পর্যন্ত মা-ই তাঁর বাবা-মা-বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় সালমান। কোনো একটা স্বপ্নে দীর্ঘ সময় স্থির থাকতে পারতেন না। ‘ছোটবেলায় কাজিনরা মিলে সাঁতার শিখতে যেতাম। তখন মনে হতো বড় হয়ে সাঁতারু হব। আবার যখন শিল্পকলা একাডেমীতে ছবি আঁকা শিখতাম, তখন মনে হতো যেকোনো মূল্যে শিল্পী হতেই হবে।’ বলছিলেন সালমান। তবে গায়ে-গতরে খানিক বেড়ে ওঠার পর প্রায় সংকল্প করে বসলেন যে তিনি একজন আর্মি অফিসার হবেনই হবেন। ‘কিন্তু বাদ সাধল চোখ। ক্ষীণদৃষ্টি সমস্যার কারণে আমার সে সংকল্প আর ধোপে টিকল না।’ তবে সে জন্য মনে কোনো আক্ষেপ নেই তাঁর। কারণ, তত দিনে তাঁকে পেয়ে বসেছে ফটোগ্রাফির নেশা। তখন দিনের পর দিন ক্যামেরা নিয়ে জঙ্গলে ঘুরেছেন, পাহাড়ে উঠেছেন, সমুদ্রে ডুবেছেন। একটা টুনটুনির ছবির জন্য সারা দিনমান গাছের ডালে, পাতার আড়ালে লুকিয়ে থেকেছেন ক্যামেরা নিয়ে। ২০০৬ সালে সাঁতরে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। সে সময় ছবি তুলেছেন জলের তলের জীবজগতের। সে সময়ের স্মৃতিচারণা করতে করতে তাঁর চোখ চকচক করে ওঠে। তিনি স্বপ্নালু চোখে বলতেই থাকেন, ‘সে সময়টা ছিল আমার প্রস্তুতি পর্ব।’ ছেলের এমন দস্যিপনায় মা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছেন, তবে ভরসা হারাননি। বাধা দিয়ে ছেলের পছন্দের পথ কণ্টকিত করেননি। বরং ছেলেকে উৎসাহ দিয়ে ছেলের সঙ্গে নিজেই করেছেন ফটোগ্রাফি কোর্স। না, সালমান ক্যামেরার প্রেমে পড়ে পড়ালেখাকে বনবাসী করেননি। মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছেন ভারতের দার্জিলিংয়ের মাউন্ট হারম্যান স্কুলে। দেশে ফিরে স্নাতক সমাপ্ত করেছেন ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে। আর এখন স্নাতকোত্তর করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নোমা প্রোগ্রামে। গবেষণার বিষয় ‘মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট’। সালমানের অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে, আড্ডা দিয়ে। তবে যা কিছুই করেন না কেন, ক্যামেরা কিন্তু তাঁর গলাতেই শোভা পায়। ‘কারণ, আমার প্রস্তুতি পর্ব তো এখনো শেষ হয়নি।’



Recent Comments